:|: আল্লাহ্র আইন মুসলিম এর অধিকার, আল্লাহ্র শারীয়া প্রতিষ্ঠা মুসলিম এর দায়িত্ব। কিন্তু হায়! মুসলিম আজ স্ব-ইচ্ছায় কুফফার এর আইন মেনে চলার শিরকে নিমজ্জিত!:|:
:|: Basheera Wa Nazeera :|:
:|: Is Allah Not Your RABB? :|:
:|: Quran Study – ONE Ayah a Day :|:
:|: Quran for Critical Reasoning :|:
:|: Dignity Being Muslim :|:
:|: ‘Muslims’ in Kuffar’s Mindset :|:
:|: ‘Muslims’ Following Kuffar’s Deen :|:
:|: ‘Muslims’ Obeying Kuffar’s Shariah :|:
:|: Know Your STATUS, O Muslim! :|:
:|: Know What Consists of Shirk :|:
:|: Time for Hijrah :|:
:|: Why Hijrah? :|:
বিসমিল্লাহ! আল হামদুলিল্লাহ!
ওয়া আস সালাতু আসসালামু আ’লা রসুলিল্লাহ!
পর্ব এক (১ঃ)
(১)
যে মুসলিম এর আল্লাহর দ্বীন এর প্রতি ঘিরা (ঈর্ষা কাতরতা) নাই, সে কেমন মুসলিম আমার মাথায় আসে না।
যে মুসলিম আল্লাহর শারীয়ার জন্য আকাঙ্ক্ষা নাই, সে কেমন মুসলিম আমার মাথায় আসে না।
যে মুসলিম কুফফার এর আইনের আধীনে থেকে, কুফফার এর অথরিটির মধ্যে থেকে রাতের বেলায় নিশ্চিত ঘুমাতে যায়, সে কেমন মুসলিম আমার মাথায় আসে না।
একটা পুরুষ নিজের বউকে আর একজনের ঘরে পাঠিয়ে রাতের বেলায় নিশ্চিত মনে ঘুমাতে পারে?
যে পুরুষের বউকে অন্য পুরুষ জোর করে তুলে নিয়ে গেছে, সেই পুরুষ কি বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারে? সে পুরুষ কি মাথা উঁচু করে চলতে পারে?
আল্লাহর শারীয়া কি একটা মুসলিম এর কাছে তার বউ এর চাইতেও কম মর্যাদাবান হয়ে গেছে?
সেটুকু ঘিরা (ঈর্ষা কাতরতা) ও কি একটা মুসলিম এর আল্লাহর দ্বীন এর প্রতি থাকবে না?
(২)
আল্লাহর আইন মুসলিম এর অধিকার।
দুনিয়াতে আল্লাহ্র অথরিটি, আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করা একটা মুসলিম এর দায়িত্ব।
(সুরা আশ-শুরা ৪২ঃ১৩, আত-তাওবা ৯ঃ৩৩, আল-আনফাল ৮ঃ৩৯)
কিভাবে, সে আইন কুফফার হরন করে নেয়ার পর সে পাগলপারা না হয়ে থাকতে পারে?
কিভাবে তার অধিকার ছিনিয়ে না নেয়া পর্যন্ত একটা মুসলিম নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে?
(৩)
উপরন্তু একটা মুসলিম কিভাবে সরাসরি সেই কুফফার এর অধীনে, কুফফার এর দেশে থাকতে পারে?
কুফফার এর আইনের কাছে নিজেকে সোপর্দ করে তার মুসলিম-স্বত্বাকে কিভাবে একটা মুসলিম অপমান করতে পারে?
কোথায় আজ মুসলিম এর মর্যাদা? (Dignity)
কোথায় আজ মুসলিম এর মুসলিম-স্বত্বা? (Self-respect)
আল্লাহ ভালো জানেন।
আল্লাহ মুসলিমদের কুফফার এর আইনের অধীনে থাকার অপমানবোধ জাগ্রত করুক।
আল্লাহ মুসলিমদের কুফফার এর আইন স্ব-ইচ্ছায়, দ্বিধাহীন ভাবে মেনে নেয়ার শিরক (সুরা কাহফ ১৮ঃ২৬) থেকে রক্ষা করুক।
আল্লাহ মুসলিমদেরদর গাইড করুক।
পর্ব দুই (২)
(১)
قُلِ ٱللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا لَبِثُوا۟ۖ لَهُۥ غَيْبُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِۖ أَبْصِرْ بِهِۦ وَأَسْمِعْۚ مَا لَهُم مِّن دُونِهِۦ مِن وَلِىٍّ وَلَا يُشْرِكُ فِى حُكْمِهِۦٓ أَحَدًا
“বল, ‘তারা যে সময়টুকু অবস্থান করেছিল, সে ব্যাপারে আল্লাহই অধিক জানেন’। আসমানসমূহ ও যমীনের গায়েবী বিষয় তাঁরই। এ ব্যাপারে তিনিই উত্তম দ্রষ্টা ও উত্তম শ্রোতা। তিনি ছাড়া তাদের কোন অভিভাবক নেই। তাঁর ‘হুকুমে’/ সিদ্ধান্তে (আদেশ, নিষেধ, আইন, বিচার ব্যবস্থায়) তিনি কাউকে শরীক করেন না।”
(সুরা কাহফ ১৮ঃ২৬)
(২)
এখানে আল্লাহ সুবহানাহু কি বলছেন?
তাঁর ‘হুকুমে’ তিনি কাউকে শরীক করেন না।”
(সুরা কাহফ ১৮ঃ২৬)
হুকুম মানে কি?
তার সিদ্ধান্ত (আদেশ, নিষেধ, আইন, বিচার ব্যবস্থা)
সহজ কথায় এর মানে হচ্ছে, আল্লাহর আইনে আল্লাহ কাউকে শরীক করেন না।
কারন আইন একমাত্র তাঁর। আইন দেয়ার একমাত্র অধিকার তাঁর।
(সুরা ইউসুফ ১২ঃ৪০)
(৩)
এর মানে কি?
আসুন একইরকম ঘটনা দিয়ে বুঝতে চেষ্টা করি।
কোন মুসলিম এর এটা জানতে এবং মানতে আপত্তি নেই যে,
যে আল্লাহ্র এবাদত গ্রহন করে, সে নিজেকে আল্লাহ্র সমকক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করে।
এর কারন আল্লাহ তার এবাদতে কাউকে শরীক করেন না।
(সুরা কাহফ ১৮ঃ১১০)
যেমন, একটা মূর্তি।
একটা মূর্তি যখন এবাদত গ্রহন করে, সেই মূর্তি তখন নিজেকে আল্লাহ্র সমকক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করে।
কিন্তু যে মানুষ সেই মূর্তির এবাদত করে?
তাকে কি বলে?
তাকে বলে মুশরিক।
কোন মুসলিম এর এটা মানতেও কোন আপত্তি নেই, বা এর প্রতি কোন সন্দেহ নেই, তাই না?
(৪)
এবার তাহলে আসি “তাঁর ‘হুকুমে’ তিনি কাউকে শরীক করেন না।”
এটা কি বুঝতে কোন সমস্যা আছে যে,
যে আল্লাহর আইনের বিপরীতে কোন আইন তৈরী করে সে নিজেকে আল্লাহ্র সমকক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করে?
কিন্তু এবার কথা হচ্ছে, যারা সেই আইনকে অনুসরন করে, মেনে চলে, তাদের অবস্থা কি?
তারা কি আল্লাহ্র সাথে শিরক করে না?
(৫)
যে নিরুপায় হয়ে, বাধ্য হয়ে আল্লাহ্র আইনের বিপরীত আইনকে, কুফফার এর আইনকে মেনে চলে, তার কথা আলাদা। আল্লাহ তাদের মাফ করুক। আল্লাহ আমাদের মাপ কর।
(৬)
কিন্তু যে জানেই না,
যার এ বিষয়ে কোন বোধ-ই নেই, জ্ঞ্যান নেই তার কি অবস্থা?
যে মানুষ না জেনে, না বুঝে মূর্তির এবাদতে মশগুল থাকে আল্লাহর কাছে তার অবস্থান কি?
এটা আমরা খুব কঠিন একটা উদাহরন দিয়েই বুঝতে পারি।
আল্লাহ আমিনার জন্য রসুলুল্লাহ সল্লিল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে মাপ চাওয়ার অনুমতি দেন নি। (সহীহ মুসলিম ২১৪৮/ ১০৫/ ৯৭৬)
অথচ, আমিনার কাছে আল্লাহ্র কোন কিতাব ছিল না।
তাহলে যে মানুষ আজ না জেনে, না বুঝে কুফফার আইন মেনে চলার শিরকে মশগুল আছে, আল্লাহর কাছে তার অবস্থান কি হতে পারে?
অথচ তার কাছে আল্লাহ্র কিতাব বর্তমান।
(৭)
না জেনে শিরক করার অবস্থাই যদি এমন হয়, তাহলে,
জানার পরেও যে মুসলিম নির্ধিধায়, নিশ্চিন্তমনে কুফফার এর আইনের কাছে নিজেকে সোপর্দ করে দিয়ে নিশ্চিত মনে ঘুমিয়ে যাচ্ছে, তার কি অবস্থা?
(৮)
না জেনে শিরক করার অবস্থাই যদি এমন হয়, তাহলে,
জানার পরেও যে মুসলিম স্ব-ইচ্ছায়, নির্ধিধায়, নিশ্চিন্তমনে সরাসরি কুফফার এর অধীনে, কুফফার এর দেশে বাস করে, কুফফার এর আইনের কাছে নিজেকে সোপর্দ করে দিয়ে নিশ্চিত মনে ঘুমিয়ে যাচ্ছে, তার কি অবস্থা?
(৯)
আর যে উলামাগুলো মুসলিমদের এই বিষয়ে সাবধান করছে না, তাদের কি অবস্থা?
আল্লাহ বলছে, এরা হচ্ছে নষ্ট।
(সুরা আল-মাইদাহ ৫ঃ ৬৩)
(১০)
আজ একটা মুসলিম বাই-ডিফল্ট কুফফার আর আইনের অধীনে জন্ম নিচ্ছে, বাই-ডিফল্ট কুফফার আইনকে মেনে চলছে, না জেনে, না বুঝে। অথচ লক্ষ লক্ষ উলামা, তারা এই বাই-ডিফল্ট শিরক সম্পর্কে সাধারন মুসলিমদের সাবধান করছে না।
আল্লাহ ভালো জানেন।
আল্লাহ এই নষ্ট উলামাদের গাইড করুক।
আল্লাহ মুসলিমদের স্ব-ইচ্ছায় কুফফার আইন মেনে চলার শিরক থেকে উদ্ধার করুক।
Discover more from Basheera Wa Nazeera
Subscribe to get the latest posts sent to your email.